| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকার আদালতে ভারতের সখিনা বেগম, জামিন না হওয়ায় ভেঙে পড়লেন মেয়ে

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২০, ২০২৫ ইং | ০৭:৩৯:১৫:পূর্বাহ্ন  |  ১২৬২৫৩৯ বার পঠিত
ঢাকার আদালতে ভারতের সখিনা বেগম, জামিন না হওয়ায় ভেঙে পড়লেন মেয়ে
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পুরান ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে হাজতখানার সামনে ছিলো স্বজনদের ভিড়। গেটের ফাঁক দিয়ে অনেকে প্রিয়জনের দেখা পেতে চেষ্টা করছিলেন। ঠিক এমন সময় গেট খুলে বেরিয়ে এলেন নারী পুলিশে পরিবেষ্টিত এক বৃদ্ধা ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া সখিনা বেগম।

শারীরিকভাবে দুর্বল ৬৮ বছরের সখিনা বেগমের মুখে ছিলো অসহায়ত্বের ছাপ। টিভি ক্যামেরা ও জনসমাগমে খানিকটা হতবিহ্বলও মনে হচ্ছিল তাকে। ‘অসুস্থ হয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি’ দুর্বল কণ্ঠে সাংবাদিকদের এতটুকুই বলতে পেরেছিলেন।

কয়েক মাস আগে ভারতের নলবাড়ি জেলার বরকুড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের পর কোনো রকম নথিপত্র ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় অসহায় অবস্থায় তাকে পায় পুলিশ। পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দেয় পুলিশ। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে শুরু হয় তার কারাজীবন।

সেই থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন বৃদ্ধা সখিনা বেগম। তাকে খুঁজে পেয়ে আশ্রয় দিয়েছিল মিরপুরের একটি পরিবার। পরিবারের সদস্য ক্লান্তি আক্তার বলেন, ‘পুলিশ যখন নিতে আসে, তিনি বারবার জড়িয়ে ধরেছিলেন। খুব ভয়ে ছিলেন।’

এদিন জামিন শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ক্লান্তি আক্তারও। তিনি জানান, সখিনা বেগম কিছুটা দুর্বল হলেও আগের চেয়ে সুস্থ আছেন এবং জামিনের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন সবাই।

দুপুরে প্রায় বিশ মিনিট শুনানি শেষে আদালত তাৎক্ষণিক আদেশ দেননি। পরে ঘণ্টাখানেক পর জানানো হয়,সখিনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর। তার আইনজীবীরা জানান, ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়া দেশে প্রবেশের অপরাধ জামিনযোগ্য হলেও আদালত যুক্তি দিয়েছেন, জামিন পেলে তিনি ভারতে ফিরে যেতে পারেন, ফলে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে জামিনের রায়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন আসামে থাকা সখিনা বেগমের মেয়ে রাসিয়া বেগম। আদালতে মায়ের ভিডিও দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

জামিন নাকচের খবর পেয়ে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে রাসিয়া বলেন,

‘মায়ের শেষ বয়সে সেবাযত্ন করার সুযোগ চাই। দুই সরকারকে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি উনাকে দেশে ফিরতে দিন। মামলা চালানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’

এ ঘটনার পর ভারতের অল বিটিসি মাইনরিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সখিনা বেগমকে ফেরানোর জন্য তারা আইনি লড়াইয়ে নামছে। সংগঠনের সভাপতি টাইসন হোসেইন বলেন, প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দ্বারস্থ হবেন।

বাংলাদেশের আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, তারা আবার নতুন করে জামিন আবেদন জানাবেন।

এদিকে ভিনদেশের কারাগারে অপরিচিত পরিবেশে দিন কাটাতে হচ্ছে বৃদ্ধা সখিনা বেগমকে। জামিন পেলেও তিনি কবে দেশে ফিরতে পারবেন তা এখনও অনিশ্চিত। সূত্র: বিবিসি বাংলা 


রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪