রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর চূড়ান্ত খসড়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে প্রতিপক্ষকে টার্গেট করার হাতিয়ার হিসেবে দুদককে ব্যবহারের যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে, তা বন্ধের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানায় টিআইবি।
টিআইবি জানায়, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত সমর্থন এবং সংস্থাটির ধারাবাহিক পরামর্শ বিবেচনায় সরকার প্রাথমিকভাবে সুপারিশটির প্রতি সম্মতি দিলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে তা বাদ দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের দাবি, এটি প্রমাণ করে যে সরকার রাষ্ট্রসংস্কারের নামে সংস্কারবিরোধী মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার দেশবাসীর কাছে কী বার্তা দিতে চায় রাষ্ট্রসংস্কার কি তবে শুধুই কথার কথা?
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ভালো চর্চার আলোকে দুদককে ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ঠেকাতে এই কমিটির সুপারিশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জন্মলগ্ন থেকেই জনআস্থার সংকটে ভুগছে ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্ত করতেই এ প্রস্তাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিনি বলেন, ষাণ্মাসিক পর্যালোচনা, গণশুনানি ও সুপারিশের মাধ্যমে দুদকের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যই ছিল ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’। সরকার এই কৌশলগত সুপারিশের গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে, যা দুঃখজনক ও রাষ্ট্রসংস্কারবিরোধী।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে সরকারের অন্তত সাতজন উপদেষ্টাও এই সুপারিশের বিরোধিতা করেছেন। অথচ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে একমত। তিনি প্রশ্ন তোলেন—জুলাই সনদের প্রতি এমন অবজ্ঞা দেখিয়ে সরকার কি নিজেই রাজনৈতিক দলগুলোকে সনদ লঙ্ঘনের পথ দেখাচ্ছে? দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কাঠামো দুর্বল রেখে রাষ্ট্রসংস্কার কীভাবে সম্ভব?
রিপোর্টার্স২৪/এসসি