স্টাফ রিপোর্টার: দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর জন্য সরবরাহ ঘাটতিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, যেসব জেলা থেকে পেঁয়াজ আসে সেখানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, নিকেতনসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুদিন আগে ছিল ১১০-১২০ টাকা।
এদিন নিকেতন কাচাবাজারে বাজার করতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী ক্যসামং মারমা।
তিনি বলেন, এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১৬০ টাকা শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। ভেবেছিলাম ভুল শুনেছি। পরে বুঝলাম ঠিকই বলেছে। চারটি দোকান ঘুরেও দেখলাম সব জায়গায় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শেষে ১৫০ টাকা কেজিতে কিনতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, দুই দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে যাওয়া অসম্ভব। বাজারে নিশ্চয়ই কিছু হচ্ছে। সরকারকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
এদিন বিকেলে মোহাম্মদপুর বাজারে কথা হয় ক্রেতা রাসেল শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুদিন আগেও ১১০ টাকায় পেয়াজ কিনলাম। আর আজকে ১৫০ টাকা। এটা কোনো কথা! দুদিনে কেজিতে ৪০ টাকা কিভাবে বাড়তে পারে? দেশটা মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে।
খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই হতবাক হয়েছেন। কেউ কেউ আবার তর্কে জড়িয়েছেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুহিন জেনারেল স্টোরের মালিক মোহাম্মদ সিয়াম জানান, পরিবহন খরচসহ পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৪৫ টাকায় কিনেছেন এবং আকারভেদে ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ঢাকা উদ্যানের এক বিক্রেতা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে পেয়াজের দাম বাড়ায়, খুচরা বাজারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃ ভাণ্ডারের মালিক সজীব শেখ বলেন, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও পাবনার হাটে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। এ কারণে আমরা কেজিপ্রতি ১৩৮-১৪৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করছি। আমরা ফরিদপুর হাটে ৮০ বস্তা পেঁয়াজ কেনার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় মাত্র ২০ বস্তা কিনতে পেরেছি। নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে এবং আমদানি শুরু হলে এক মাসের মধ্যে দাম কমে যাবে।
শ্যামবাজার পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, এই সময়ে বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকায় দাম বাড়ছে। দুই মাস ধরে আমরা পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো অনুমতি পাইনি। প্রতিবেশী দেশে পেঁয়াজের দাম বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১০ টাকা। অনুমতি পেলে সব খরচ মিলিয়ে আমরা ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতাম এবং বাজার স্বাভাবিক হয়ে যেত। আমাদের এখানে নতুন পেঁয়াজ আসতে আরও এক থেকে দেড় মাস লাগবে। এরপর হয়তো দাম স্বাভাবিক হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব