রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়ন সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে স্থানীয় জনগণের চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
তিনি বলেন, দ্রুত তহবিল বিতরণ, সঠিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী রক্ষায় সক্ষম তহবিল কাঠামো এখন অপরিহার্য।
তিনি এসব কথা বলেন রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অর্থায়ন কৌশল প্রণয়ন শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায়। অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মূলত নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তার নীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা শিথিল হয়েছে। উন্নত কিছু দেশ এখনও বৈজ্ঞানিক সত্য অস্বীকার করছে, যা জলবায়ু অর্থায়নকে জটিল ও অন্যায্য করে তোলে।
তিনি বলেন, কয়েকটি দেশ প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও অনেকেই জলবায়ু আলোচনাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। দেশীয় অর্থায়ন এখনো অসম। প্রতিবছর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বাজেট পায়, অথচ বড় প্রকল্পগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় স্থিতিস্থাপকতা পর্যাপ্ত অর্থায়ন পায় না।
সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, শুধু অর্থ প্রদানই যথেষ্ট নয়। সংস্থাগুলোর পরিকল্পনাগত দক্ষতা, কর্মী সক্ষমতা এবং দ্রুত বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে আহ্বান জানান। নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান Bangladesh Climate Development Partnership (BCDP)-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, BCDP-কে কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রকল্প উন্নয়ন এবং তদারকিএই চারটি ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে কৌশলগত নির্দেশনা তৈরি হওয়া উচিত।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া পুনর্গঠিত হয়েছে। এখন বেসরকারি সংস্থাগুলো প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করতে পারবে। এর ফলে সরকারি সংস্থাগুলো মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা লাভ করবে, এবং নাগরিক সমাজ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারবে।
উপদেষ্টা বলেন, নদীভাঙন এলাকা, লবণাক্ততা অঞ্চল ও খরাপ্রবণ এলাকায় বিপুল আবেদন আসলেও অল্প কিছু সমর্থন সম্ভব হয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে নতুন সড়ক নির্মাণের তুলনায় অনেক বেশি ফলপ্রসূ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপ্রাসঙ্গিক খাতে অর্থায়ন দায়বদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।
পরে মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত সবার জন্য ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে নবগঠিত পুলিশ কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যা পূর্বে ছিল না।
উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম