সিনিয়র রিপোর্টার: দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ধারাবাহিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তারা মূলত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা এবং সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াকে এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার(১৯ ডিসেম্বর) নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানটের সামনে অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের এসব অনাচারের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া শুধু একটি ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই ভয়াবহ বার্তা বহন করে।
অধ্যাপক সামিনা আরও বলেন, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, পাশাপাশি ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা প্রমাণ করে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও সাংস্কৃতিক চর্চার নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র যথাযথভাবে সক্ষম হয়নি। এ ধরনের ব্যর্থতার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মানজুর আল মতিন, লেখক ও সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনরা। তারা একযোগে সহিংসতা, হামলা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি