রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে খুনের প্রতিবাদ ও ন্যায্য বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই শাহবাগ এলাকায় মানুষ জড়ো হতে শুরু করে এবং দিনের মধ্যে শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের একপ্রকার ঢল নামে।
বিক্ষোভ চলাকালীন শাহবাগ মোড়ে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নামাজের পর মোড়ের নাম পরিবর্তন করে তা ‘শহীদ ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের কারণে শাহবাগ মোড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি সাদিক কায়েমের ঘোষণায় শাহবাগে শুরু হয় আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশ। মৎস্য ভবনমুখী সড়কে ডাকসু সদস্যরা একটি ট্রাকের ওপর অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান দেন। পাশাপাশি জুলাই ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সদস্যরাও বিশাল অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের স্লোগান ছিল, ‘আর নয় প্রতিরোধ, এবার হবে প্রতিশোধ’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’ ও ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি লড়াই করে’।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তারা হাদি হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ওসমান হাদির লাশ ঢাকায় পৌঁছানো পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা আমাদের ভাই হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বো না। আমাদের এই অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে।” তিনি হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন।
ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের বলেন, শহীদ হাদি কোনো সহিংসতার পথে বিশ্বাসী ছিলেন না। মেধা, মনন ও জ্ঞানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলাই ছিল তার আদর্শ। তিনি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের উসকানি বা সহিংসতায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ার পর শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে শাহবাগে এসে সমাবেশে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর রিকশা আরোহী হাদি মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় কিছু দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি