রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে রাষ্ট্রীয় ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে বিকেল ৩টার দিকে শহীদ হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে পৌঁছায়। সেখানে নির্ধারিত কবরস্থানে নেওয়ার পর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে মরদেহ নামানো হয় এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
দাফন উপলক্ষে সমাধি চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সোয়াট, ডিবি ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তের গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়।
প্রসঙ্গত, শহীদ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম