| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ডিসেম্বরে সড়কে প্রাণ গেল ৫০৩ জন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ ইং | ১৪:২২:২০:অপরাহ্ন  |  86605 বার পঠিত
ডিসেম্বরে সড়কে প্রাণ গেল ৫০৩ জন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত প্রতীকী ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০৩ জন। এ সময়ে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৪৭টি, যাতে আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৬ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ২৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হন। এ ছাড়া ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ৫ জন আহত হন। একই সময়ে ৩৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৬ জন, আহত হন ১১ জন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ১৪ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৪২ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৭ জন এবং থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৬৮ জন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২২ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।

ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১১২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৮১টি পেছন থেকে আঘাত করার ঘটনা।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত মোট যানবাহনের সংখ্যা ৯৮৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল (২৬৩টি) ও থ্রি-হুইলার (১৬৬টি)। এ ছাড়া বাস ১২৩টি, ট্রাক ১৩৭টি, কাভার্ডভ্যান ২৭টি, পিকআপ ৩৬টি এবং অন্যান্য যানবাহনও দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকায় ২৯টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, নির্দিষ্ট বেতন-কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেছে।

দুর্ঘটনা কমাতে সুপারিশে বলা হয়েছে— দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে রোড ডিভাইডার স্থাপন, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং রেল ও নৌপথ উন্নয়নের মাধ্যমে সড়কপথের ওপর চাপ কমানো।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪