রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর পল্টনে একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ‘শারমিন একাডেমি’র অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন। এর আগে ভোরে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. নুর ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এজাহারনামীয় পলাতক আসামি গ্রেপ্তারসহ মূল রহস্য উদঘাটন, আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই, এই ধরনের অপরাধ অন্য কোনো শিশুর সাথে ঘটেছে কি না খতিয়ে দেখা এবং শিশুটির প্রতি অমানবিক নির্যাতনের কারণ উদঘাটনের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
তবে শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন ২৭ জানুয়ারি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন। কক্ষে ঢুকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড় থাপ্পড় দেয়া হচ্ছে। এরপর সেখানে বসে থাকা অন্য একজনের কাছে শিশুটি কিছু বলে মনে হচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সোজা সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তি একটি স্ট্যাপলার হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে মুখে স্ট্যাপল করে দেওয়ার ভান করেন। তিনি বারবার শিশুটিকে থামতে নির্দেশ দেন। পরে পুরুষ ব্যক্তি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরেন।
ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে ঘটে।
৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও শেয়ার করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা শারমিন ফেরদৌস বুধবার পল্টন মডেল থানায় পবিত্র কুমার ও তার স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের নামে মামলা করেন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা