রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন কি না—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয়, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনের কারণে খলিলুর রহমানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হতে পারে, তবে এর মানে এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন না। বিষয়টি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই অর্জনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ আবারও এই মর্যাদাপূর্ণ পদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে খলিলুর রহমান এই দায়িত্ব পেলেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেজ কাকাউরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০ ভোটের মধ্যে ৮ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় তার।
এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি কি এক বছরের ছুটি নেবেন এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।
এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নেবেন।”
নিজের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুশি আছি।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম