| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আগুনে ঝলসে মৃত্যু, মামলা না নেওয়ায় সৈয়দপুর থানার সামনে স্বজনদের বিক্ষোভ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ১৭:৪৩:১০:অপরাহ্ন  |  ১৯০ বার পঠিত
আগুনে ঝলসে মৃত্যু, মামলা না নেওয়ায় সৈয়দপুর থানার সামনে স্বজনদের বিক্ষোভ

নীলফামারী প্রতিনিধি: সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের মৃত্যুর তিন দিন পরও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে রাস্তায় নেমেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে নিহতের লাশ নিয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সৈয়দপুর থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে বন্ধ হয়ে যায় সৈয়দপুর-নীলফামারী শেরে বাংলা সড়কের যান চলাচল। এ সময় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সড়কে অবস্থানকালে বিক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত থানা ভবনের গেটে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। প্রায় ৩ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি বিরাজ করে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত বুধবার ভোরে খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ঢাকা বার্ন ইউনিটে ৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার মারা যান আফাজ উদ্দিন। কিন্তু মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

প্রায় ৩ ঘণ্টা চলে এই কর্মসূচি। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার জমা নিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের দাবি, মামলার এজাহারে ত্রুটি থাকায় সংশোধনের জন্য বলা হয়েছিল। পরিবারের অসহযোগিতার কারণেই মামলা নিতে বিলম্ব হয়েছে।

গত বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে পেট্রোল আগুনের শিকার হয়ে ঝলসে যান।

ঘটনার পরই বাবাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেদিন বিকেলেই তাঁকে ঢাকায় বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১টায় মারা যান।

আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে পাতা কুড়ানো নিয়ে একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেয়।

এরই জেরে মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে তারাগঞ্জ বাজারে আমার ভাইকে আটক করে মারধর করে। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই পুরাতন বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি ৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ৩ দিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তা ছাড়া ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরই এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় কেউ আসতে না পারায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার তারা একটি এজাহার আনলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলি।

কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এমনকি আমরা সংশোধন করে দিতে চাইলেও সম্মত না হওয়ায় এই বিলম্ব। আজ সকাল ৯টায় আসার জন্য বললে তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রতিপক্ষের দাবি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হেনস্তা করতে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষী নেই এবং প্রতিপক্ষের কেউ জড়িত নয়। কিন্তু ঘটনাটিকে নিয়ে একটি চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪