রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে বড় অগ্রগতির খবর দিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নির্মাণাধীন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা ঢাকার পানি ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
সোমবার (৮ জুন) রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুরে ঢাকা ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই (ডিইএসডব্লিউএস) প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্প থেকে পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপের প্রকল্প যুক্ত হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। ফলে মোট সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটারে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকার পানির চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এতে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। ভবিষ্যতের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মেঘনা নদীর পানি শোধন করে রাজধানীতে সরবরাহের এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ সময় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পটির পানি সরবরাহ সক্ষমতা প্রতিদিন ১০০ কোটি লিটারে উন্নীত হবে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। মেঘনা নদীর পানি পরিশোধন করে রাজধানীবাসীর কাছে নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও টেকসই পানির সরবরাহ নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
পরিদর্শন শেষে প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে দ্রুত প্রকল্প চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হলে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ঢাকার পানি সংকট সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম