আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ফ্লোরিডায় বৈঠক করতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লোলদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভূখণ্ড ছাড়, রাশিয়ার অবস্থান এবং চলমান বিমান হামলা শান্তিচুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় বৈঠকে বসছেন। লক্ষ্য,ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে একটি কার্যকর শান্তি পরিকল্পনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য এবং রাশিয়ার চলমান হামলার কারণে আলোচনাকে কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাশিয়া কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জেলেনস্কি এ হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করেন।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে তিনি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বিতর্কিত ডনবাস অঞ্চল, জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলবেন। ইউক্রেনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরহি কিসলিতসিয়া জানান, শনিবার রাতেই জেলেনস্কি ও তাঁর প্রতিনিধি দল ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন।
রাশিয়া বরাবরই ডনবাস অঞ্চলের পুরোটা ইউক্রেনের কাছ থেকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে, এমনকি যেসব এলাকা এখনও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেগুলোও। এই দাবির কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আদৌ কোনো চুক্তিতে সম্মত হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
জেলেনস্কি শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে বলেন, তিনি ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের মার্কিন প্রস্তাবটি শিথিল করাতে চান। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনাটি গণভোটে তোলার পক্ষেও তিনি মত দেন। তবে এ জন্য অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জেলেনস্কির এই অবস্থানকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইউক্রেনের জনগণ এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
ভূখণ্ড নিয়ে বড় মতভেদ
কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বহু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাশিয়া যেখানে পুরো ডনবাস দাবি করছে, সেখানে ইউক্রেন বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী মানচিত্র স্থির রাখার পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র আপস হিসেবে ওই অঞ্চলকে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল করার প্রস্তাব দিলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের প্রায় ১২ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে বলে রুশ হিসাব। পুতিনের শর্ত অনুযায়ী, শান্তিচুক্তির জন্য ইউক্রেনকে ডনবাস, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চল ছাড়তে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য পরিত্যাগ করতে হবে।
কানাডা ও ইউরোপের সমর্থন
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইউক্রেনে রুশ হামলাকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে কিয়েভের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ২৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলার অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনও বলেছেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তিই ইউরোপের লক্ষ্য।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গেও আবার আলোচনা করবেন।
রয়টার্স/রিপোর্টার্স২৪/এসসি