| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিএনএন প্রতিবেদন

সু চি কারাগারে, বিরোধী দল নিষিদ্ধ; বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট মিয়ানমারে

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ১৩:৫৫:১৯:অপরাহ্ন  |  141575 বার পঠিত
সু চি কারাগারে, বিরোধী দল নিষিদ্ধ; বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট মিয়ানমারে
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি,সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রায় পাঁচ বছর পর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ইয়াঙ্গুনসহ কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণ হলেও চলমান গৃহযুদ্ধ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির দমন-পীড়ন এবং দেশের বড় অংশে ভোট না হওয়ায় এই নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সামরিক সরকার দাবি করছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আবারও ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা’ ফিরবে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। মিয়ানমারের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি এখনও কারাগারে বন্দি, আর তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ দলই সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

নতুন এক আইনের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা, বাধা বা প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে জান্তা সরকার। এরই মধ্যে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিশেষ করে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা ও মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলায় সেখানে ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি।

এক বছর আগে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধাদের হাতে একের পর এক পরাজয়ের মুখে পড়ে সেনাবাহিনী। সে সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, সামরিক শাসনের অবসান ঘটতে পারে। তবে চলতি বছর বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ, নতুন করে চীনের অস্ত্র সহায়তা এবং পুনর্গঠিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জান্তা আবারও কিছু এলাকা পুনর্দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে নির্বাচন আয়োজন করেছে সামরিক নেতৃত্ব।

ইয়াঙ্গুনে ভোট দিতে আসা অনেক নাগরিকই হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন হিসাবরক্ষক সু নামের এক ভোটার জানান, আগের নির্বাচনে অন্তত প্রতিবাদস্বরূপ ব্যালট ফাঁকা রাখার সুযোগ ছিল। এবার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে কোনো না কোনো অনুমোদিত দলকে ভোট দিতে হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেন, এই নির্বাচন মূলত ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল ‘সংশোধনের’ চেষ্টা, যেখানে সেনাবাহিনীর বিরোধীরা বিপুল বিজয় পেয়েছিল। তাঁর মতে, এটি সামরিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল, প্রকৃত গণতান্ত্রিক উদ্যোগ নয়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে ব্যাপক সহিংসতায় জড়ায় সেনাবাহিনী। এর ফলে হাজার হাজার তরুণ অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’ গড়ে ওঠে। প্রায় পাঁচ বছরের সংঘাতে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে, তিন মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মিয়ানমার এখন মাদক ও অনলাইন প্রতারণার অন্যতম বৈশ্বিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, গ্রাম পোড়ানো, নির্বিচার বোমাবর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো জান্তা সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং নির্বাচন নিয়েও তারা সমালোচনামুখর। বিপরীতে রাশিয়া ও চীন এই নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিন ধাপে ভোটগ্রহণ চলবে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। তবে কবে ফল ঘোষণা করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অনেক সাধারণ নাগরিক মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশকে সংকট থেকে বের করে আনতে পারবে না। কায়াহ রাজ্যের একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত এক তরুণী শিক্ষক বলেন, ‘এই নির্বাচন কখনোই ন্যায্য হবে না। শেষ পর্যন্ত এটি একটি ভুয়া নির্বাচনই হয়ে থাকবে।’

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪