| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নওগাঁয় সবজির হাটে ওজন ও খাজনা আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ১৪:২৫:২২:অপরাহ্ন  |  ২০৯ বার পঠিত
নওগাঁয় সবজির হাটে ওজন ও খাজনা আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর হাটগুলোতে ইজারাদার ও ব্যাপারিদের (ব্যবসায়ীদের) জুলুমে অতিষ্ঠ কৃষকরা। ধলতার নামে সবজি ও আমের ওজনে প্রতি মণে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দুই থেকে আট কেজি পর্যন্ত বেশি। আর নিয়মবহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে খাজনা। নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলের নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত ২৭ এপ্রিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে সারা দেশে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ওজনে অনিয়ম বন্ধে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ধলতা বা শুকনার অজুহাতে কোনোভাবেই ৪০ কেজির বেশি এক মণ ধরা যাবে না। তবে সেই পরিপত্র কাগজেই রয়ে গেছে। পরিপত্রের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এমনকি সরকারি তত্ত্বাবধানে খাস আদায়ের হাটেও মানা হচ্ছে না সরকারি নিয়ম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবজিভাণ্ডার ও জিআই সনদপ্রাপ্ত নাক ফজলি আমখ্যাত বদলগাছী উপজেলা সদরের বদলগাছী হাটে প্রতি শনিবার ও বুধবার হাট বসে। প্রতি হাটে কোটি টাকার সবজি বেচাকেনা হয়। কৃষকরা কষ্ট করে উৎপাদিত সবজি নিয়ে হাটে ঢুকলেই প্রথমে তোলার নামে (হাট ঝাড়ুদারকে) প্রতি মণে এক কেজি দিতে হয়। এরপর দরদাম শেষে সবজি বিক্রির পর ধলতার নামে ব্যবসায়ীদের দিতে হয় প্রতি মণে দুই থেকে তিন কেজি বেশি (৪০ কেজিতে মণ হলেও ৪২/৪৩ কেজিতে মণ হিসেবে)। শুধু এখানেই শেষ নয়, নিয়ম না থাকলেও খাজনা হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে জোর করে কেটে নেওয়া হচ্ছে পটল ও আলুতে প্রতি মণে ২০ টাকা, মরিচ ও অন্যান্য সবজিতে প্রতি মণে ৪০ টাকা। আমের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ৮ কেজি। যেন কৃষকদের ফসল ফলানোই আজন্ম পাপ। আর এমন জুলুম চলছে বদলগাছী উপজেলার হাটগুলোসহ জেলার সব হাটে। এমনকি উপজেলার কোলা, ভান্ডারপুর, চাঁদপুর ও বদলগাছী—এই চারটি বৃহৎ সবজির হাট টেন্ডার না হওয়ায় সরকারি তত্ত্বাবধানে খাস আদায় হলেও সেখানেও মানা হচ্ছে না সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম।

সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ওজনে অনিয়ম বন্ধে এবং ৪০ কেজির বেশি এক মণ না নেওয়ার বিষয়ে পরিপত্র জারি হয়েছে। তবে সেই পরিপত্র কাগজেই রয়ে গেছে। প্রশাসনের নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। এ কারণে হরহামেশাই কৃষকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও হাট ইজারাদারদের মধ্যে হট্টগোল চলছে। কৃষকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে সবজি ও আমের হাটের এসব অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।

বদলগাছী উপজেলার চকনরেসিং গ্রামের কৃষক সাহানুর ইসলাম বলেন, “আমাদের এমপি ফজলে হুদা বাবুল অনেক চেষ্টা করে ওজনে বেশি নেওয়া বন্ধে কৃষি অধিদপ্তর থেকে একটি পরিপত্র করেছেন শুনেছি। সেজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু সেই পরিপত্রের কোনো বাস্তব প্রয়োগ হাটে দেখছি না। ব্যবসায়ীরা জোর করে প্রতি মণে তিন থেকে চার কেজি বেশি নিচ্ছে। আবার কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও অন্যায়ভাবে খাজনা কাটা হচ্ছে। আমরা এই অন্যায়ের প্রতিকার চাই। অবিলম্বে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। পরিপত্র শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও দেখতে চাই।”

সবজি ব্যবসায়ী ওয়ারেজ বাবু বলেন, “সবজি ভেজা থাকায় শুকিয়ে যায়। এজন্য সামান্য ধলতা নিতে হচ্ছে। তবে কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা কাটা হলেও তা ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন না। শুধুমাত্র হাট ইজারাদারদের নির্দেশ পালন করছি। যেহেতু তাদের সঙ্গে আমরা হাট করছি, সেজন্য তাদের কথা মানতে হয়। তারা যদি বলে, তাহলে আমরা খাজনা নেব না। আর সরকারি পরিপত্র বিষয়ে আমরা অবগত। এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা জানালে আমরা তা পালন করব।”

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে একটি পরিপত্র পেয়েছি। তাতে নির্দেশ আছে, কৃষকদের কাছ থেকে ধলতা বা শুকনার নামে কোনোভাবেই ৪০ কেজির বেশি নেওয়া যাবে না। যেহেতু বদলগাছী একটি সবজিভাণ্ডার এবং এখানে জিআই সনদপ্রাপ্ত নাকফজলি আম রয়েছে, তাই আমরা ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং করছি। এই মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। কোনো ভুক্তভোগী কৃষকের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই খাজনা আদায় করা হয়েছে। তারপরও কোনো ভুক্তভোগী কৃষক মৌখিক অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরিপত্র জারির পর থেকে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তবে কোনো কৃষকের কাছ থেকে এখনো অভিযোগ পাইনি। কৃষকরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আগামীকাল এ বিষয়ে একটি সভা আছে, সেখানেও আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, জেলায় মোট ছোট-বড় ১০৪টি হাট রয়েছে। এসব হাটে প্রতিদিন কৃষকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অন্যায়ভাবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪