যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক হামলাকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে মার্কি। এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এই হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা সব মার্কিন নাগরিকের জন্য এক বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তার ভাষ্য, ট্রাম্পের একপাক্ষিক পদক্ষেপ বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিকদের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠার পর ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক প্রতিশোধী অভিযান থেকে অন্তত ২০১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তারা, প্রত্যেকটি হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশন EUNAVFOR Aspides-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের হুমকির কয়েক সপ্তাহ পর শনিবার ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু হয়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বাহিনীর মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ
বাহরাইনের রাজধানী মানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করার পর ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র মুজতবা খালেদি জানিয়েছেন যে, ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নাগরিকদের হামলাস্থলগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ এবং দমনমূলক আহ্বান বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আল-আলম টিভি জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি খুব শিগগিরই একটি ভাষণ দেবেন। সূত্র জানিয়েছে, তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে ভাষণ শুরু করবেন। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বেআইনি ও অবৈধ’ বলে অভিহিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি একটি নিরাপদ জাতি চান ও জনগণের স্বাধীনতা চান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি এ কথা বলেন। আজ দিনের শুরুতে তাঁর রেকর্ড করা ভিডিও বার্তার পর এটিই প্রথম সরাসরি মন্তব্য। ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘আমি একটি নিরাপদ জাতি চাই, এবং সেটাই আমরা পেতে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুধু জনগণের স্বাধীনতা চাই।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা “অপারেশন এপিক ফিউরি” থেকে বেঁচে গেছেন। আরাঘচি এনবিসি নিউজকে বলেন, যতদূর আমি জানি, তিনি জীবিত রয়েছেন। হামলায় তাদের সংরক্ষিত কমপ্লেক্সে বিস্তৃত ধ্বংসস্তুপ তৈরি হলেও,
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলাকে “একটি পূর্বপরিকল্পিত এবং অপ্ররোচিত সশস্ত্র আগ্রাসন, যা জাতিসংঘের সদস্য ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে”
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এবং
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একটি সূত্র বলেছে, তাদের কাছে আসা খবর ইঙ্গিত করছে খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ইরানের দক্ষিণে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতরা মূলত স্কুলের শিক্ষার্থী। এছাড়া, ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত আরেকটি বিদ্যালয়েও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।