রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুইমিংপুলে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিচার-সহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সায়মা হোসাইন। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ সেশনের মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন । তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- এ ঘটনায় সুইমিংপুল, হল ও মেডিকেল সেন্টার-সহ যাদের অবহেলা আছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে বিচার করতে হবে , নিহত সায়মা হোসেনের পরিবারকে এককালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার অবিলম্বে সংস্কার করে উন্নত সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং সায়মা হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিংপুলের র নামকরণ তার নামে করতে হবে।
মানববন্ধনে জাহিরা নামে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, সায়মা আপু সাঁতার জানতেন। উনি সুইমিংপুলে প্রাকটিস করতে গিয়ে তাপসী রাবেয়া হলের তানজিলা আপুর সাথে এমনিতেই একটা সাঁতার প্রতিযোগিতা করেন। প্রতিযোগিতায় তানজিলা আপু জিতে যান। এরপর তানজিলা আপু পুল থেকে উঠে যান। কিন্তু সায়মা আপু একপর্যায়ে ডুবে যান। ওখানে আরও ৮-১০ জন মানুষ ছিলেন, কিন্তু কেউ বিষয়টি লক্ষ্য করেননি! আর সুইমিংপুলের পানির অবস্থা এতো খারাপ যে ওখানে কেউ ডুবে গিয়েছে, সেটা দেখা যায় না!
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘক্ষণ ওনাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সবাই। আদিবাসী এক আপু প্রথম ওনাকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখেন। এরপর একজন ট্রেইনার নেমে ওনাকে তুলতে পারেননি। ৪০-৪৫ কেজি ওজনের একটা মেয়েকে কেনো তুলতে পারলেন না, এটা বুঝি নাই। পরে ৮-১০ জনের কেউই তুলতে পারেননি! বাইরে থেকে পুরুষ মানুষ ডেকে এনে তোলা লেগেছে। আবার সেখান থেকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গিয়ে দেখে অক্সিজেন নাই। বাইরের একটা মেয়ে সিপিআর দেওয়ার সময় মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার তাকে নিষেধ করেন। অথচ ওই ডাক্তার কিছুই না করে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবহেলার করুণ পরিণতি। আর কয়টা লাশ পড়লে এই পরিস্থিতির অবস্থান হবে, সেটাই দেখার বিষয়।
মানববন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের সাথে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ মেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন