রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : ফ্যাসিবাদের উত্থানের পেছনে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেশন আগে থেকেই চলছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ তো নতুন বিষয় নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আয়োজনে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপরোক্ত মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
ডাকসুর আমন্ত্রণে উক্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ নেতারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সভার বিষয় ছিল “লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান: ২৮ অক্টোবর প্রেক্ষিত”।
সভায় রিজভী বলেন, ২০০৫ সালে আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর বলেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক করুন, নাহলে তৃতীয় পক্ষ আসবে। তো উনি কী করে জানলেন তৃতীয় পক্ষ আসবে? এখানে যে গোষ্ঠীটা ফ্যাসিবাদ ১৬ বছর চালাবে, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে এবং এটা ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একটা সিন্ডিকেশন। এই সিন্ডিকেট অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে, ক্রমাগতভাবে তারা সেদিকে এগিয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর হচ্ছে তার প্রথম দিক এবং প্রথম বহিঃপ্রকাশ।’
আওয়ামী লীগের লগি-বইঠার আন্দোলনের ভয়াবহতাকে স্মরণ করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বেদনায় হতবাক হয়েছি যে, এভাবে মানুষ মানুষকে মারতে পারে। দুই দলের মধ্যে অনেক সময় সংঘাত হয়, কিন্তু ঠান্ডা মাথায় আঘাত করার পর মাটিতে শুয়ে পড়েছে, তারপর নারকীয় নৃত্যের উল্লাস করেছে আওয়ামী লীগ। এই ভয়াবহতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে বাংলাদেশের সমগ্র মানুষ। স্বয়ং জাতিসংঘের মহাসচিব প্রতিবাদ করেছিলেন এই ঘটনায়। শেখ হাসিনার প্রথম ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। ওই দিনের মর্মান্তিকতা, নিষ্ঠুরতা গোটা বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। নিঃসন্দেহে সারা বাংলাদেশের মানুষ একেবারে বিস্মিত হয়েছে।’
সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান এবং ২৮ অক্টোবরের শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে