| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

টেকটোনিক প্লেটের ৩ ফল্টে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ১২:০৭:৪২:অপরাহ্ন  |  ১২১৮২৫১ বার পঠিত
টেকটোনিক প্লেটের ৩ ফল্টে ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক ফল্টের ওপর অবস্থান করায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সময়মতো প্রস্তুতি গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এখনই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মত প্রকাশ করা হয়। সেমিনারে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল অডিট, নির্মাণমান তদারকির কঠোরতা, উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তারা। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিয়মিত ড্রিল, সচেতনতা কার্যক্রম ও পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা। তারা জাপানের ভূমিকম্প-পরবর্তী অভিজ্ঞতা, নিরাপদ স্থাপত্য নকশা এবং আধুনিক নির্মাণমান বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয় এই তিন সক্রিয় প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম–টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট মিলিয়ে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনঘনত্ব, বিল্ডিং কোড উপেক্ষা এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের এমডি মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ঢাকাসহ দেশের ঝুঁকির বাস্তব চিত্র মনে করিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, দুর্বল ভবন কাঠামো ও অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বিপর্যয় ভয়াবহ হতে পারে। এখনই সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সময়।

সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী প্রফেসর ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন, রিহ্যাব সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান, বাজুস সভাপতি এনামুল হক খানসহ আরও অনেকে।

সেমিনারে জানানো হয়, গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ২০০টির বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর থেকে কম্পনের হার বেড়েছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। সিলেট–টেকনাফ সাবডাকশন জোনে ৮০০–১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত না হওয়ায় এটিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪