রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়েই এবারের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যে অঞ্চলের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি, কারণ এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে। পাশাপাশি এর ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের হাব হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়ন সম্পন্ন হলে যাতায়াত সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে।
তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করেও বড় পরিসরের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি পেয়েছে, যার সঙ্গে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে। এরপর সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে এর ইতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হবে এবং দেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগোবে।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট এবং বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম