| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছেলে অপরাধ করেছে, তবু রাষ্ট্রের কাছে প্রাণভিক্ষা চাই: সোহেলের বাবা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ০৭:৫১:৪২:পূর্বাহ্ন  |  ৯০ বার পঠিত
ছেলে অপরাধ করেছে, তবু রাষ্ট্রের কাছে প্রাণভিক্ষা চাই: সোহেলের বাবা

নাটোর প্রতিনিধি: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের (২৮) রায় ঘোষণার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয়রা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সোহেলের বাবা রাষ্ট্রের কাছে ছেলের প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন। অন্যদিকে, স্বপ্নার পরিবার আদালতের রায় মেনে নিয়ে এর বাস্তবায়ন দাবি করেছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর সোহেল রানার গ্রামের বাড়িতে এ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এর আগে শনিবার কারাগার থেকে ফোনে বাবা-মা ও সন্তানদের কাছে ক্ষমা চান সোহেল রানা।

সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম ভাইয়ের ফাঁসি হতে পারে। আদালতের রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে হয়তো আপিল করতাম।

সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমার ছেলে অপরাধ করেছে। তারপরও রাষ্ট্রের কাছে তার প্রাণভিক্ষা চাই। আমরা খুবই গরিব মানুষ। আপিল করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকার আইনজীবীর ব্যবস্থা করলে আপিল করব।

ছেলের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সোহেলের মা শাহানাজ বেগম বলেন, আমি মা, ছেলের ফাঁসির রায়ের কথা শুনে বুক ফেটে যাচ্ছে। আল্লাহ যদি হায়াত দেন, আপিলের পর যেন সে আবার বাড়িতে ফিরতে পারে।

অন্যদিকে, স্বপ্না আক্তারের বাবা জিয়াদুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমি আগেই মেয়েকে ত্যাজ্য করেছি। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমরা কোনো আপিল করব না। দ্রুত রায় কার্যকর হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেনের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছিলেন সোহেল রানা। তিনি এলাকায় রিকশা মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি জুয়া, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও ছিল বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় গিয়ে পরিচয় গোপন করে বসবাস শুরু করেন। জুয়া খেলে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়ায় একপর্যায়ে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যান বলে জানা গেছে।

এদিকে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রায়ে নিহত শিশু রামিসার পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪